অল্প টাকায় ব্যবসার আইডিয়া যা আপনি শুরু করতে পারবেন আজই!

বেকার জীবনে পড়ে থাকা মানুষ গুলো যখন কোন বিজনেসের কথা মাথায় আনে তখন অধিকাংশ মানুষই দিশে হারা হয়ে পড়ে। আর তার প্রধান কারণ হল, তারা সঠিক বিজনেস আইডিয়া খুঁজে পায় না। ভুল পথে পা বাড়িয়ে নিজের অনেক অর্থ নষ্ট করে ফেলে। তখন সে স্তব্ধ হয়ে যায়।

 

এই সমস্ত মানুষ বা যারা এখন বিজনেসের কথা চিন্তা করছেন তাদের জন্য আমার কিছু ইউনিক বিজনেক আইডিয়া। আমি এমন কিছু আইডিয়া দিবো যার মাধ্যমে আপনি আপনার বিজনেসে ১০০% সফলতা পাবেন। ছোট, বড়, মাঝারি, কৃষি, পাইকারি, উৎপাদনমুখী, খাবার ভিত্তিক, অনলাইন, স্মার্ট, নতুন ও ইউনিক ব্যবসার ধারনা নিয়ে আর্টিকেলটি সাজানো নিচে সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম।

 

ইউনিক বিজনেস আইডিয়া

১. অনলাইন শিক্ষকতা

 

অনলাইনে আপনার পছন্দের বিষয়টি শিখিয়ে ঘরে বসেই ভাল রকমের আয় করা সম্ভব। বিষয়টি হতে পারে পড়াশোনা, বাদ্যযন্ত্র বা ভাষা শিক্ষা। আপনার দক্ষতা ও আগ্রহের ভিত্তিতে নির্ধারণ করুন বিষয়। নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল খুলে বিনা বিনিয়োগেই আয় করতে পারবেন।

এছাড়াও রয়েছে অনলাইন শিক্ষকতার বিভিন্ন পোর্টাল, যেখানে নাম নথিভুক্ত করে সহজেই শুরু করতে পারবেন শিক্ষকতা।  এই ধরণের প্ল্যাটফর্মে কোর্স আপলোড করেও শুরু করতে পারেন আপনার ব্যবসা। অঙ্ক, বিজ্ঞান, ভাষা শিক্ষার পাশাপাশিই আঁকা, প্রোগ্রামিং, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, মার্কেটিং, ফটোগ্রাফি, ব্যবসা ইত্যাদি নানা বিষয়ে কোর্স আপলোড করার সুযোগ রয়েছে এই ধরণের প্ল্যাটফর্মে। টেক্সট, ভিডিও, অডিও বা প্রেজেন্টেশনের আকারে আপলোড করতে পারেন কোর্স।

২. খাবারের হোমডেলিভারি

 

আজকের কর্মব্যস্ততার যুগে বাড়িতে রোজ রান্না করার সুযোগ হয় না অনেকেরই, আবার প্রতিদিন হোটেলের খাবারও খেতে চান না বেশিরভাগ। এই চাহিদা মেটাতেই শুরু হয়েছিল খাবারের হোম ডেলিভারির ব্যবসা। নিজের বাড়িতে রান্না করে পৌঁছে দিন বাড়ি বাড়ি, সময় মতো সুস্বাদু খাবার দিতে পারলে ব্যবসার অভাব হবে না।

কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন অঞ্চলে ব্যবসার সুযোগ বেশি। শহরের বাইরে থেকে পড়তে আসা ছাত্রছাত্রীরা অনেকেই রোজকার রান্না করতে চান না, সেক্ষেত্রে তাঁরা নির্ভর করেন হোম ডেলিভারির ওপর। এছাড়া অনেক ছোট পরিবারও রোজকার খাবারের জন্য হোমডেলিভারির খাবারের ওপরই নির্ভর করেন।

৩. অনলাইন বেকারি

 

রকমারি কেক, কুকিস্ বানাতে ভালবাসেন? আত্মীয়-বন্ধুদের জন্মদিন-অ্যানিভারসারিতে আপনার বানানো কেকের কদর রয়েছে? তাহলে এই ছোট ব্যবসা আপনার জন্য। ওভেন-ফ্রেশ বেকারি আইটেমের চাহিদা প্রচুর, আর তা যদি আপনি একেবারে ক্রেতার ঘরে পৌঁছে দিতে পারেন তাহলে তো কথাই নেই। নিত্যনতুন রেসিপি চেষ্টা করুন, তৈরি করুন আপনার স্পেসালিটি। ঘরের ওভেনেই কেক-কুকিস্ বানিয়ে অনলাইনে বিক্রি করুন।

৪. ফলের রসের কিয়স্ক

 

প্রথমেই বেছে নিতে হবে জায়গা। এমন জায়গায় কিয়স্ক করতে হবে যাতে সহজেই চোখে পড়ে। আসে পাশে অফিস, স্কুল, কলেজ থাকলে বিক্রি হওয়ার সুযোগ বেশি। ওই জায়গায় কিয়স্ক বসানোর অনুমতি পত্র যোগাড় করতে হবে, ভাড়া নিতে হবে জায়গা। এর পর দরকার কাঁচামাল আর ফলের রস তৈরির যন্ত্র। গোটাটাই অল্প টাকায় করে ফেলা সম্ভব।

৫. ট্রাভেল এজেন্সি

 

অল্প পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করতে হলে ফ্লাইট, রেল আর বাসের টিকিট বুকিংয়ের ব্যবসার কথা ভাবতে পারেন। প্রয়োজন কমপিউটার, ইন্টারনেট আর এজেন্ট হওয়ার জন্য অনুমতি। বাড়িতে বসে স্বল্প মূলধনে ব্যবসা করতে চাইলে সব থেকে সহজ উপায় হল হোস্ট এজেন্সির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া। প্রাথমিক বিনিয়োগের পরিমাণ নির্ভর করে হোস্ট এজেন্সির উপর কিন্তু তা আল্প টাকাার মধ্যে রাখা সম্ভব।

 ৬. ট্যুর গাইড

বাঙালি বেড়াতে যেতে ভালবাসে। আর তার জন্য তারা অনেক সময়েই নির্ভর করে ট্যুর গাইডের ওপর। ফ্লাইট, ট্রেনের টিকিট বুকিং, হোটেল বুকিং থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ ট্যুরটি প্ল্যান করা পুরোটার দায়িত্ব আপনার। অফিস, স্কুল বা কলেজের ট্যুর করাতে পারলে নিয়মিত ব্যবসা পাওয়া সম্ভব। এটি কম খরচে লাভের ব্যবসা। আপনাকে শুধু একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে, আর যোগাযোগ তৈরি করতে হবে বিভিন্ন জায়গার হোটেলের সঙ্গে, জেনে নিতে হবে তাদের ট্র্যাভেল এজেন্ট কমিশনের রেট। খুঁজে বের করুন নতুন নতুন জায়গা। বর্তমানে সব থেকে লাভজনক ব্যবসার একটি ট্যুর অপারেটিংয়ের ব্যবসা।

৭. কাস্টমাইজড গয়না তৈরি

 

নতুন ধরণের গয়না তৈরি করুন, অভিনবত্ব আনুন গয়নার ডিজাইন, স্টাইল আর উপকরণে। অনলাইনে ব্যবসা করুন। এই ধরণের গয়না তৈরির উপকরণ সহজেই পাওয়া যায় বিভিন্ন বাজারে। পছন্দ মতো উপকরণ সংগ্রহ করে বাড়িতে বসে সহজেই বানিয়ে ফেলুন গয়না।

৮. অনলাইনে হস্তশিল্প সামগ্রী বিক্রি

 

দেশের বিভিন্ন জেলাতে রয়েছে হস্তশিল্পের বিপুল সম্ভার। অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু করতে ছোট ছোট ঘর সাজানোর সামগ্রী সংগ্রহ করুন, অথবা ছোট গয়না। গ্রামীণ শিল্পীরা অনেক কম দামেই বিক্রি করেন তাঁদের তৈরি সামগ্রী। তাই অত্যন্ত কম খরচে লাভের ব্যবসা করা সম্ভব।

 ৯. দর্জির দোকান

 

অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু করতে হলে ভাবতে পারেন দর্জির দোকানের কথা। তবে এক্ষেত্রে আপনার অবশ্যই থাকতে হবে উপযুক্ত দক্ষতা ও সৃজনশীলতা। নিজের বাড়ি থেকেও এই ব্যবসা করতে পারেন। ক্রেতার বাড়ি গিয়ে ডিজাইন আর মাপ নিয়ে এসে বাড়িতে বসে বানিয়ে পৌঁছে দিয়ে আসুন ক্রেতার বাড়িতে। অনলাইনে বহু নতুন নতুন অভিনব ডিজাইন পাওয়া যায়, সেখান থেকে নিজের পছন্দ মতো ক্যাটালগ তৈরি করে নিন।

১০. বিউটিশিয়ান

 

উপযুক্ত দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ থাকলে অল্প পুঁজিতে এই ব্যবসা করা সম্ভব। প্রথমেই কিনে ফেলুন প্রাথমিক পরিষেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ। বাড়িতে গিয়ে ফেসিয়াল, পেডিকিওর, ম্যানিকিওর, অয়েল ম্যাসাজ বা ওয়্যাক্সিংয়ের মতো পরিষেবা দিন ক্রেতাকে। অনেকে বিউটি পার্লারে না গিয়ে বাড়িতেই এই সমস্ত পরিষেবা পেতে পছন্দ করেন। পরিষেবার মান ভাল হলে লোক মুখেই প্রচার হবে। তৈরি করতে পারেন আপনার ওয়েবসাইটও।( কম খরচে ওয়েবসাইট তৈরি করতে যোগাযোগ করতে পারেন সমাহার সফট এ)  অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।

১১. মেকআপ আর্টিস্ট

 

আপনি যদি সাজাতে ভালবাসেন, যদি থাকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, তাহলে খুব সহজেই অল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা করা সম্ভব। কনে সাজানো থেকে পার্টি মেকআপ অথবা নাচ বা অন্যান্য অনুষ্ঠান, ডাক পেতে পারেন বিভিন্ন জায়গা থেকে। এক্ষেত্রেও একটি ওয়েবসাইট থাকলে ক্রেতার কাছে পৌঁছনো সহজ হবে। কম খরচে ওয়েবসাইট তৈরি করতে যোগাযোগ করতে পারেন সমাহার সফট এ।

১২. নাচ, গান বা আঁকার স্কুল

 

আপনার যদি এর মধ্যে কোনও একটি দক্ষতা থাকে তাহলে সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে প্রায় বিনিয়োগ ছাড়াই আয় করতে পারবেন। আপনার বাড়িতেই এই স্কুল খুলতে পারেন, বা ভাড়া করতে পারেন কোনও ঘর। ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি গিয়েও শেখাতে পারেন গান, নাচ বা আঁকা। এর জন্য আপনাকে হতে হবে ধৈর্যশীল আর দায়িত্ববান। এই ব্যবসার প্রচার মূলতঃ হয় লোকমুখে। তাই আপনি যদি ছাত্রছাত্রীদের খুশি করতে পারেন তাহলে তাদের থেকে শুনেই নতুন ছাত্রছাত্রী আসবে।

১৩. বিদেশী ভাষা শিক্ষা

আপনার যদি কোনও বিদেশী ভাষা জানা থাকে, তাহলে সেই দক্ষতা ব্যবহার করে সহজেই লাভজনক ব্যবসা করতে পারবেন। ছোট থেকে বয়স্ক, বিভিন্ন বয়সের ছাত্রছাত্রী পাওয়া সম্ভব। বিনা বিনিয়োগে আয় করতে পারবেন এই ব্যবসায়। তবে এই ব্যবসা করতে সংশ্লিষ্ট ভাষায় আপনাকে যথেষ্ট দক্ষ হতে হবে নিশ্চিতভাবেই, হতে হবে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ও ধৈর্যশীল।

১৪. ফ্রিল্যান্স কন্টেন্ট রাইটিং

 

ইংরেজি ভাষায় যথেষ্ট দক্ষতা থাকলে কন্টেন্ট রাইটিংয়ের কাজ পাওয়া সহজ। ঘরে বসে অনলাইনে ব্যবসা করে আয়ও হবে ভালই। বিভিন্ন ফ্রিল্যান্স সাইটের মাধ্যমে এই কাজ পাওয়া যেতে পারে। ইদানিং আঞ্চলিক ভাষায়ও কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এই লেখার নিজস্ব কিছু কৌশল রয়েছে, যেমন সার্চ ইঞ্জিনে যাতে আপনার লেখা ওপরের দিকে স্থান পায় তার জন্য জানতে হয় সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কৌশল। তবে চর্চা করলে রপ্ত করে নেওয়া কঠিন হবেনা। ভাষার ও শব্দভাণ্ডারের ওপর দখল থাকাই এই ব্যবসায় সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। বিনা বিনিয়োগে ঘরে বসে আয় করতে পারবেন এই ব্যবসায়।

১৫. ইউটিউব চ্যানেল

 

অনলাইনে আয় করার আরও একটি সহজ উপায় ইউটিউব চ্যানেল। শিক্ষামূলক থেকে রান্না শেখানো, লাইফ হ্যাকস্ থেকে বেড়ানো, বিষয় হতে পারে যে কোনও। চ্যানেলের ফলোয়ার বাড়াতে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করতে হবে। স্মার্টফোনে ভিডিও তুলেও আপলোড করতে পারেন চ্যানেলে। তবে শব্দ ও ছবির গুণমান ভাল হওয়া জরুরি। ভিডিওর যথেষ্ট ভিয়্যু হলে বিজ্ঞাপন বাবদ টাকা পাবেন।

১৬. অনুবাদের ব্যবসা

দুটি বা তার বেশি ভাষা জানা থাকলে অনুবাদের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। পৃথিবীজুড়ে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরণের অনুবাদের প্রয়োজন পড়ে, তা হতে পারে আইনি কাগজ বা মেডিক্যাল নথি, অথবা মোবাইল অ্যাপ বা গেমিং। এছাড়াও পাওয়া যায় সিনেমা বা টিভি সিরিজের সাবটাইটেল অনুবাদ করার কাজ। প্রতিটির জন্য নির্দিষ্ট কিছু দক্ষতা থাকা প্রয়োজন, প্রয়োজন সেই বিষয়ের শব্দ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান। ঘরে বসে ইন্টারনেটে ব্যবসা করে আয় হবে ভালই। অনুবাদ এজেন্সির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলে নিয়মিত কাজ পাওয়া যাবে।

১৭. গ্রাফিক ডিজাইনিং

 

বলা হয় পূর্ণ সময়ের চাকরির চেয়ে নিজের ব্যবসায় আয় বেশি করেন গ্রাফিক ডিজাইনাররা। কমপিউটার আর প্রয়োজনীয় সফ্টওয়্যার থাকলে অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। বস্তুতঃ আলাদা কোনও অফিসেরও প্রয়োজন নেই, ব্যবসা করতে পারেন ঘরে বসেই। অর্ডার পেতে পারেন অনলাইনে অথবা চুক্তিবদ্ধ হতে পারেন বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে যাদের নিয়মিত গ্রাফিক ডিজাইনিংয়ের কাজের প্রয়োজন। আজকের ডিজিটাল যুগে গ্রাফিক ডিজানিংয়ের কাজের সুযোগ প্রচুর।

১৮. ওয়েডিং প্ল্যানার

 

বিয়ে বাড়ি ভাড়া করা থেকে ডেকরেশন, খাওয়া দাওয়া থেকে বিয়ের কার্ড ছাপান, কনের সাজ থেকে ফটোগ্রাফি বিয়ের ঝক্কি অনেক। আজকের ছোট পরিবার আর ব্যস্ততার যুগে এই সব কাজ সুষ্ঠভাবে করার লোক কমে আসছে। অথচ এই বিশেষ দিনটির জাঁকজমক নিয়ে আপস করতে চান না কেউই, আর তাই বাড়ছে ওয়েডিং প্ল্যানারদের চাহিদা। বর্তমানে সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসার মধ্যে অন্যতম এই ব্যবসা। অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। প্রয়োজন একটা আকর্ষণীয় ওয়েবসাইট আর যোগাযোগ।  কম খরচে ওয়েবসাইট তৈরি করতে যোগাযোগ করতে পারেন সমাহার সফট এ।

১৯. পেট ডে কেয়ার

 

আপনি যদি কুকুর, বেড়াল ভালবাসেন, সহজেই বন্ধুত্ব করে ফেলতে পারেন পোষা জীবদের সঙ্গে, তাহলে এই ব্যবসার কথা ভাবতে পারেন। পরিবারের সকলে কাজে বেরোলে অথবা ছুটি কাটাতে শহরের বাইরে গেলে বাড়ির পোষ্যকে দ্বায়িত্বশীল যত্নবান হাতে দিয়ে যেতে চান সকলেই। আমাদের দেশে এই ক্ষেত্রটিতে এখনও খুব বেশি কাজ হয়নি, তবে সুযোগ রয়েছে অনেক। অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু করে আয় ভাল হবে।

২০. অনলাইনে বাংলা বই বিক্রি

আপনার যদি বাংলা সাহিত্য নিয়ে যথেষ্ট জানা বোঝা থাকে তাহলে অল্প টাকায় এই ব্যবসার কথা ভাবতে পারেন। অ্যামজন ফ্লিপকার্টের সৌজন্যে ইংরেজি ও মূলধারার অনেক বই অনলাইনে পাওয়া গেলেও বাংলা বইয়ের ক্ষেত্রে এ সুযোগ এখনও কম। বিশেষতঃ পুরনো বা দুষ্প্রাপ্য বাংলা বই অনলাইনে পাওয়াই যায় না। অথচ কলেজস্ট্রিট এলাকাতেই খুঁজলে বহু এরকম দুষ্প্রাপ্য বাংলা বইয়ের সন্ধান মেলে। নতুন ছোট প্রকাশকদের বইও রাখতে পারেন আপনার সংগ্রহে। কলেজস্ট্রিট যদি আপনার নখদর্পণে হয় এই ব্যবসা আপনার জন্য। নিজস্ব ওয়েবসাইট (কম খরচে ওয়েবসাইট তৈরি করতে যোগাযোগ করতে পারেন সমাহার সফট এ।) বা ফেসবুকের মাধ্যমে এই ব্যবসা করতে পারেন। অর্ডার অনুযায়ী ক্রেতার বাড়িতে পৌঁছে দিন বই। প্রচুর বই কিনে ব্যবসা শুরুর দরকার নেই। অর্ডার এলে বই সংগ্রহ করে পৌঁছে দিন ক্রেতার হাতে।

২১. সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট

ছোট বড় সব সংস্থার জন্যই সামাজিক মাধ্যমে উপস্থিতি প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে উঠছে। নিজেদের পরিষেবা বা পণ্য গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া ও ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর অনেকাংশেই নির্ভর করে প্রায় সব কোম্পানিই। খরচও হয় কম। বড় কোম্পানিদের সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্টের জন্য নিজস্ব কর্মী থাকলেও ছোট কোম্পানি বা স্টার্টআপ-রা বেশিরভাগই বাইরের সংস্থাকে দিয়ে থাকে এই কাজের দায়িত্ব। বিনা বিনিয়োগে ঘরে বসে আয় করতে পারেন এই উপায়ে।

২২. মিনারেল ওয়াটারের ব্যবসা

 

কম টাকায় লাভজনক ব্যবসা করতে হলে বাড়িতে বাড়িতে মিনারেল ওয়াটারের ড্রাম পৌঁছে দেওয়া একটা সহজ উপায়। অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। শহরাঞ্চল ও শহরতলিতে বহু পরিবারই পানীয় জলের জন্য নির্ভর করে এই জল বিক্রেতাদের ওপর। এই কাজ পরিশ্রমসাধ্য, সাইকেলে করে জলের ড্রাম টেনে নিয়ে যেতে হয় এ পাড়া থেকে ও পাড়া। আবাসনে লিফ্ট না থাকলে জলের ড্রাম কাঁধে করে সিঁড়ি বেয়ে উঠে পৌঁছে দিতে হয় বহুতলে। এছাড়াও সব সময়ে পর্যাপ্ত জল মজুত রাখা জরুরি, যাতে ক্রেতার প্রয়োজন হলে সঙ্গে সঙ্গে জল সরবরাহ করা সম্ভব হয়।

২৩. মোবাইল রিচার্জের দোকান

অনলাইন রিচার্জের যুগেও দেশের বেশিরভার উপভোক্তাই এখনও স্থানীয় দোকানে গিয়ে মোবাইল রিচার্জ করতেই বেশি সচ্ছন্দ, তাই পাড়ায় একটি ছোট দোকান ঘর ভাড়া করে কম খরচে শুরু করতে পারেন এই ব্যবসা। এয়ারটেল, বাংলালিংক, রবি, টেলিটক, গ্রামিনফোন এর মতো নেটওয়ার্ক প্রোভাইডারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চুক্তিবদ্ধ হতে হবে, জেনে নিতে হবে কমিশন রেট। বড় কোনও বাজারে দোকান না কিনে পাড়ার ছোট দোকান ঘর ভাড়া নিলে অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু সম্ভব।

২৪. টিফিন ডেলিভারি

খাবারের হোম ডেলিভারির মতোই আরেকটি লাভজনক ব্যবসা টিফিন ডেলিভারি। পরিবারের সকলকেই যখন কাজে বেরোতে হয়, অফিসে যাওয়ার আগে টিফিন তৈরি করে নিয়ে যাওয়া প্রায় কারোও পক্ষেই সম্ভব হয় না। আর তাই আপনি যদি উন্নত গুণমানের ঘরে তৈরি খাবার পৌঁছে দিতে পারেন অফিসে তাহলে বিক্রি হবে ভালই। খাবার পৌঁছতে হবে অফিস এলাকায়, তার জন্য লোক রাখতে পারেন। অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু করে লাভের মুখ দেখুন প্রথম মাসেই।

২৫. চায়ের দোকান

 

চায়ের দোকান খুলতে ভাড়া করতে হবে একটা ছোট দোকান ঘর বা স্টল বসানোর জায়গা, কিনতে হবে কিছু বেঞ্চ আর টেবিল। অল্প টাকার মধ্যে হয়ে যাবে পুরোটাই। আর পাঁচটা চায়ের দোকানের থেকে খানিক আলাদা ভাবে সাজিয়ে নিন আপনার দোকান। দেওয়ালে ছবি আঁকাতে পারেন, বা টেবিল-বেঞ্চের রঙে আনতে পারেন নতুনত্ব। দোকানের অন্দরসজ্জাই এক্ষেত্রে হবে প্রধান। পাশাপাশি ভাল মানের চা যদি কম দামে বিক্রি করতে পারেন ব্যবসা বাড়বে। সঙ্গে মুখরোচক কিছু স্ন্যাক্সের ব্যবস্থাও রাখতে পারেন।

২৬. খাবারের ঠেলাগাড়ি

দেশি খাবার হোক বা বিদেশী, ছোট ঠেলাগাড়িতে করে খাবার বিক্রি করলে অল্প টাকায় ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। রাখতে পারেন রোল-চাউমিন অথবা বার্গার-স্যান্ডউইচের মতো খাবার। নতুন ধরণের খাবারও চেষ্টা করতে পারেন। খাবার সুস্বাদু হওয়া জরুরি। সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় পৌঁছে যেতে পারলে বিক্রি ভাল হবে। অফিস এলাকায় বিক্রি বেশি হওয়া সম্ভাবনা বেশি।

২৭. অনলাইনে শাড়ি বিক্রি (Online Saree)

বাড়ি বাড়ি গিয়ে শাড়ি বিক্রির ব্যবসা দীর্ঘদিনের। মহিলারা অল্প কিছু শাড়ি কিনে পরিচিতদের বাড়ি বা অফিস গিয়ে শাড়ি বিক্রি করেন বহুদিন ধরেই। সহজ কিস্তিতে টাকা দেওয়া, হাতের নাগালে সহজেই পছন্দ মতো শাড়ি পেয়ে যাওয়া ইত্যাদি কারণে কর্মরত ব্যস্ত মহিলারা অনেক সময়ই নির্ভর করতেন এই শাড়ি বিক্রেতাদের ওপর। তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে এই ব্যবসারই খানিক আধুনিকীকরণ হয়েছে। শুধুমাত্র ফেসবুক বিজনেস ব্যবহার করেই কম খরচে লাভের ব্যবসা করছেন অনেকে।

ঢাকায় বিভিন্ন জায়গা থেকে শাড়ি আনিয়ে অনলাইনে বিক্রি করে রমরম করে চলছে ব্যবসা। সঠিক পছন্দ আর ঠিক মতো ক্রেতার কাছে পৌঁছতে পারলে আপনিও খুব সহজেই অল্প টাকায় ব্যবসা করতে পারবেন।

২৮. কাস্টমাইজড গিফ্ট বিক্রি (Customized Gifts)

অল্প টাকায় ব্যবসা করার জন্য নিজের উদ্ভাবনী ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করে ফেলুন নতুন ধরণের উপহার সামগ্রী। ক্রেতার পছন্দ, চাহিদা ও ইচ্ছেমতো তাতে আনুন ব্যক্তিগত ছোঁয়া।

ফটোফ্রেম, টি-শার্ট আর কফিমগের বাইরে নতুন ধরণের উপহাত সামগ্রীর কথা ভাবতে পারেন। ক্রেতার নিজের মতো করে তা সাজিয়ে নেওয়ার সুযোগ রাখতে হবে। অনলাইনে ব্যবসা করতে পারেন বা নিতে পারেন কোনও ছোট দোকান ঘর। স্বল্প মূলধনের এই ব্যবসায় লাভ হবে ভালই।

২৯. আদা-রসুনের পেস্ট তৈরি

গুঁড়ো মশলার পাশাপাশিই বাড়ছে আদা ও রসুনের পেস্টের চাহিদা। রান্নার সময়ে আদা, রসুন আলাদা করে না বেটে বাজার থেকে আনা প্যাকেটের পেস্টেই ভরসা করেন অনেকে।

আদা রসুনের পেস্ট তৈরির জন্য প্রয়োজন ওয়াটার জেট ওয়াশার, স্কিন পিলিং মেশিন, ক্রাশার মেশিন ও পালপিং মেশিন। এছাড়া রয়েছে প্যাকেজিংয়ের খরচ। সাধারণত তিন অংশ রসুনের সঙ্গে দুই অংশ আদা মিশিয়ে এই পেস্ট তৈরি করা হয়। এছাড়া মেশাতে হয় প্রিজারভেটিভ বা সংরক্ষণকর।  সংরক্ষণকর হিসেবে তেল, হলুদ ও ভিনিগার মেশানো যেতে পারে।

৩০. পটেটো চিপস্ তৈরি

অত্যন্ত কম মূলধনে এই ব্যবসা শুরু করা সম্ভব। বাজারে অনেক বহুজাতিক সংস্থার পটেটো চিপস্ পাওয়া গেলেও স্থানীয় দোকানে এখনও এই চিপস্-এর চাহিদা রয়েছে।

এর জন্য প্রয়োজন বড় ডেকচি, ছাকনি ও ভাজার জন্য কড়াই। এছাড়া চিপস্ সংরক্ষণের জন্য বড় এয়ারটাইট পাত্র। বাড়ি থেকেই শুরু করতে পারেন এই ব্যবসা। স্থানীয় দোকান বা ট্রেন-বাসের ফেরিওয়ালাদের কাছে সরবরাহ করতে পারেন এই চিপস্।

৩১. বড় দোকানে স্থানীয় জিনিস সরবরাহ

রিল্যায়েন্স ফ্রেশ, মোর ইত্যাদি মেগাস্টোরে স্থানীয়ভাবে উত্পন্ন ফল, সব্জি, খোলা মশলা ইত্যাদি সরবরাহ করতে পারেন। চাষীদের থেকে পণ্য সংগ্রহ করে পৌঁছে দিতে হবে দোকানে। এর জন্য চাষী এবং মেগাস্টোরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। ব্যবস্থা করতে হবে মাল পরিবহণেরও। তবে প্রাথমিকভাবে খুব বেশি বিনিয়োগ না থাকলেও শুরু করা যাবে ব্যবসা।

৩২. ডেলিভারি বয় বা সিকিউরিটি গার্ডের এজেন্সি

ফ্লিপকার্ট, অ্যামাজনের মতো ই কমার্স কোম্পানি বা জোম্যাটো, স্যুইগির মতো খাবার সরবরাহকারী কোম্পানি ডেলিভারি বয়ের প্রয়োজন সর্বত্র। এছাড়া সব বড় কোম্পানিই বেসরকরি এজেন্সির থেকে নিয়মিত সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ করে থাকে। এই দুটি ক্ষেত্রেই বিশ্বাসযোগ্যতাই হল মূল বিষয়। আপনার স্থানীয় ছেলেদেরই আপনি নিয়োগ করতে পারেন এই এজেন্সির মাধ্যমে। এতে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানও হবে, আপনিও লাভ করতে পারবেন নিয়মিত। যে সব কোম্পানি এইধরণের কর্মী নিয়োগ করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতে হবে, হয়ে উঠতে হবে ভরসাযোগ্য।

৩৩. পুরনো জিনিসের দোকান

পুরনো জিনিসের দোকান বাইরের বিভিন্ন দেশে বেশ জনপ্রিয় হলেও আমাদের দেশে এর খুব প্রচলন নেই। তবে জামা কাপড় না হলেও পুরনো ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন বা অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক জিনিস কিনতে আগ্রহী হন অনেকেই। অন্যদিকে পুরনো জিনিসে বিক্রেতা তার অপ্রয়োজনীয় জিনিস অনেক সময়েই খুব কম দামে বিক্রি করে দিতে চান। পুরনো জিনিস সংগ্রহ করে বা কিনে নিয়ে তা বিক্রি করতে পারেন বেশি দামে। ভাল অবস্থায় থাকা জিনিস সংগ্রহ করতে পারলে লাভ হবে, আর ক্রেতাও একই দোকানে পাবেন নানারকম পুরনো ব্যবহার্য জিনিস।

৩৪. ডায়াগনসিস্ সেন্টার

আপনার এলাকায় যদি রোগ নির্ণায়ক পরীক্ষা পরিষেবা না থাকে তাহলে এই ব্যবসার কথা ভাবতে পারেন। প্রতিবার শহরে গিয়ে রোগ নির্ণায়ক পরীক্ষা করানো খরচ সাপেক্ষ ও পরিশ্রমেরও। থাইরয়েড, ডায়াবেটিসের মতো রোগে নিয়মিত পরীক্ষা করাতে হয় রোগীকে। তাই এই ধরণের সাধারণ পরীক্ষার ব্যবস্থা করে শুরু করতে পারেন ব্যবসা। পরবর্তীতে প্রয়োজন ও চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন মেশিন কিনে ব্যবসা বাড়াতে পারেন। তবে এই ব্যবসা শুরু করতে খানিক বিনিয়োগ প্রয়োজন। নয়তো বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে কাছের বড় শহরে গিয়ে পরীক্ষা করিয়ে আনতে পারেন।

৩৫. প্রি-স্কুল ফ্র্যাঞ্চাইজি

ক্ষুদে পড়ুয়াদের জন্য তৈরি প্রি স্কুল বা প্লে স্কুলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। মাঝারি ও ছোট শহরে নিজেদের ফ্র্যাঞ্চাইজি খুলতে আগ্রহী হচ্ছে কিডজি বা ট্রিহাউজের মতো প্রি স্কুল চেইনগুলো। প্রি স্কুলের ফ্র্যাঞ্চাইজি খোলার সুবিধা হল সংশ্লিষ্ট সংস্থার থেকেই নানা ধরনের সাহায্য পাওয়া যাবে। শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ, তাঁদের প্রশিক্ষণ, প্রচার ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে তারা সহায়তা করতে হবে। আপনাকে জায়গা, অন্দরসজ্জা, আসবাব, বাচ্চাদের খেলনা ইত্যাদির ব্যবস্থা করতে হবে। ১৫০০০ স্ক্যোয়্যার ফুটের একটি জায়গা পেলে ভাল হয়। সব মিলিয়ে তিন থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা মতো বিনিয়োগ করতে হবে এই ব্যবসায়।

অল্প টাকায় ব্যবসার আইডিয়া পেতে আপনার চারদিকে তাকান, মানুষের চাহিদা বোঝার চেষ্টা করুন, ভাবুন কোন কোন পরিষেবার অর্থের বিনিময় কিনতে আগ্রহী তারা আর তার মধ্যে কোন চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা আপনার রয়েছে। আগ্রহ, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তা শক্তিই ব্যবসার সাফল্যের চাবিকাঠি।

Leave A Comment

Cart
Your cart is currently empty.